স্থলভাগের (অনশোরে) ১১ ও ১২ নম্বর ব্লকে মোট ছয় হাজার কিলোমিটারজুড়ে গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহ দেখিয়েছে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন। বিষয়টি নিয়ে কোম্পানিটি গত সপ্তাহে পেট্রোবাংলায় একটি টেকনিক্যাল প্রেজেন্টেশন দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি বলে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, অনশোরে ১২ নম্বর ব্লকে গ্যাস উত্তোলন করছে শেভরন। ব্লকটিতে কোম্পানির সবচেয়ে বৃহৎ গ্যাস ক্ষেত্র বিবিয়ানার অবস্থান। তবে এ ব্লকে ইজারা নেয়া বেশকিছু এলাকা চুক্তি শেষে ছেড়ে দেয় শেভরন। এখন সেই এলাকায় নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধান করতে চায় মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানিটি। এর পাশাপাশি ১১ নম্বর ব্লকের কিছু অংশে তাদের আগ্রহ রয়েছে। ব্লকটির মালিকানায় রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। দুটি ব্লকের মোট ছয় হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাতে চায় শেভরন।
জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) মো. শোয়েব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ব্লক ১১ ও ব্লক ১২-এর বেশকিছু এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে শেভরন। তারা গত ৭ জুলাই পেট্রোবাংলায় একটি টেকনিক্যাল প্রেজেন্টেশন দিয়েছে। দুটি ব্লকে মোট ছয় হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে তাদের। পেট্রোবাংলা শেভরনের প্রেজেন্টেশন দেখেছে, তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।’
ব্লক ১১ এলাকায় এরই মধ্যে বাপেক্স চারটি অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ খননের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। খননকৃত এসব কূপ হলো সুনেত্রা-২, সুনেত্রা ইস্ট-১, মদন-১ ও মদন-২ প্রকল্প।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শেভরনের নবগঠিত বেজ অ্যাসেটস অ্যান্ড ইমার্জিং কান্ট্রিজ (বিএইসি) বিভাগের প্রেসিডেন্ট হাভিয়েল লা রোসা। ওই সময় নতুন এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ে উপদেষ্টাকে শেভরনের আগ্রহের কথা জানানো হয়।
জানতে চাইলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শেভরন ১২ নম্বর ব্লকের কিছু অংশ আর ১১ নম্বর ব্লকের কিছু অংশ চেয়েছে। এর মধ্যে ১২ নম্বর ব্লকে তারা কাজ করছে। আর ১১ নম্বর ব্লক বাপেক্সের। তবে বাপেক্সের সঙ্গে শেভরন যৌথভাবে কাজ করতে পারে কিনা সে বিষয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। এটা অবশ্য একদমই প্রাথমিক আলোচনা। ওই এলাকায় শেভরন-বাপেক্স যৌথভাবে কাজ করা গেলে দেশের গ্যাস খাতে অনেক ভালো কিছু হতে পারে। কেননা শেভরনের প্রযুক্তি বিশ্বমানের।’
গ্যাস অনুসন্ধান এলাকা বাড়ানোর বিষয়ে চলতি বছরের শুরুতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আগ্রহের কথা জানায় শেভরন। ব্লক ১১ ও ব্লক ১২-এর কিছু এলাকায় এককভাবে কাজ পেতে ওই সময় জ্বালানি বিভাগে প্রস্তাব দেয় কোম্পানিটি। ওই প্রস্তাবে অনশোরে গ্যাস পেলে অফশোর পিএসসির (মূল ভূখণ্ডের বাইরে সাগরে পাওয়া গ্যাসের উৎপাদন বণ্টন চুক্তি) শর্তে চুক্তির বিষয়টি জানায় জ্বালানি বিভাগকে। কিন্তু অনশোরে (স্থলভাগে) অফশোর পিএসসির শর্তের চুক্তির বিষয়টি আইনসংগত না হওয়ায় এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের করা জ্বালানি খাতের বিশেষ বিধান বাতিল হয়ে যাওয়ায় ওই প্রস্তাব নাকচ করে দেয় জ্বালানি বিভাগ।
হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস ক্ষেত্রের অধীন এলাকাগুলো তিনটি গ্যাস অনুসন্ধান ব্লকে কাজ করছে শেভরন। এটি তিনটি ব্লকের অধীনে। ব্লক ১২, ১৩ ও ১৪। ব্লক তিনটিতে অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম চালাচ্ছে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানিটি। এর মধ্যে ১২ নম্বরের কিছু অংশের অনুসন্ধান কার্যক্রম প্রথম দফায় চুক্তি শেষে ছেড়ে দেয় তারা। এখন ছেড়ে দেয়া অংশে পুনরায় গ্যাস অনুসন্ধান চালাতে চায় শেভরন।
দেশে দৈনিক গ্যাস উত্তোলনের ৬০ শতাংশ সরবরাহ করছে শেভরন। কোম্পানিটির আওতায় বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডটি উত্তোলনে শীর্ষ রয়েছে। দৈনিক এ ফিল্ড থেকে ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ দেয়া হচ্ছে।